সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি প্রকল্পে কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ—কিন্তু সেটাই কিনা বসানো হচ্ছে পঞ্চায়েত প্রধানের ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতরে! ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী ব্লকের কাবিলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল ক্ষোভ ও বিতর্ক।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “কমিউনিটি টয়লেট মানে তো সবার জন্য। তাহলে সেটা বাজারে, স্কুলে, বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না বসিয়ে প্রধান রোজিনা বেগম কেন নিজের বাড়ির ভেতরেই বসাচ্ছেন?”
প্রধান রোজিনা বেগম অবশ্য দাবি করেছেন, “আমার বাড়িতে প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসেন। পাশের স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে। বাড়ির পিছনের ১৭ ফুট চওড়া রাস্তা দিয়েই প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে।”
তবে গ্রামবাসীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, “যে জমিকে রাস্তার খাতায় দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেটা কোনো রাস্তা নয়। ফলে সাধারণ মানুষ টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন না। আসলে প্রধান নিজের স্বার্থেই সরকারি টাকায় বাথরুম তৈরি করছেন।”
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সিপিএম নেতা ইসমাইল শেখের অভিযোগ, “প্রধানের দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। সাবমার্সিবল পাম্প বসানো থেকে শুরু করে কন্ট্রাকটরের কাজ—সবেতেই অনিয়ম হয়েছে। এখন নিজের বাড়িতে কমিউনিটি টয়লেট বসানো সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। প্রধানের জন্যই পঞ্চায়েত কার্যত অচল।”
সরকারি নথি অনুযায়ী, এই টয়লেট বসানোর কথা ছিল কাবিলপুরের চাইপাড়া এলাকায় সাইফুল আলমের বাড়ির কাছাকাছি সরকারি জমিতে। কিন্তু সেটি শেষমেশ প্রধানের বাড়ির ভেতরে বসানো হচ্ছে বলে গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে—যে টয়লেট সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ, তা কি সত্যিই জনসাধারণের কাজে আসবে? নাকি প্রধানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবেই থেকে যাবে?
