ভোটার তালিকায় ‘ভুতুড়ে’ বানান: অনুবাদের ফেরে নাকাল সাধারণ মানুষ

ভোটার তালিকায় ‘ভুতুড়ে’ বানান: অনুবাদের ফেরে নাকাল সাধারণ মানুষ

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় নামের বানান নিয়ে বিভ্রাট নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমানে ইংরেজি থেকে বাংলা লিপ্যন্তর করার যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি (Software) ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রে নামের অর্থই বদলে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে জনমনে হাস্যরস এবং বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

খোদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নাম হয়েছে জয় মলয়া। হাই কোর্টের উকিল 'মাসুদ করিম' এর নাম বদলে হয়েছে ‘মুসুর কুমির’। একই ভাবে 'আব্দুল গনি' যিনি বাংলায় লেখেন 'আঃ গনি' ইংরেজিতে হয়েছে ‘আহ গনি’। 'মহম্মদ মেহেবুব' হয়েছে ‘মহা মাহবুব’।

কেন ঘটছে এই বিভ্রাট?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংরেজি বানানকে বাংলায় রূপান্তর করার সময় সফটওয়্যার অনেক সময় শব্দের মূল উচ্চারণ ধরতে পারে না। যেমন:

  • পদবির পরিবর্তন: অনেক ক্ষেত্রে ‘বসু’ হয়ে যাচ্ছে ‘বোস’, ‘চট্টোপাধ্যায়’ হয়ে যাচ্ছে ‘চটরজী’, 'দে' হয়ে যাচ্ছে 'ডেয়', 'রায়' হয়ে যাচ্ছে 'রঈ'।
  • অদ্ভুত নামকরণ: অনেক সময় পরিচিত নামগুলো এমনভাবে বিকৃত হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও কঠিন। যেমন ইংরেজি 'Ray' অনেক সময় বাংলায় 'রে' না হয়ে অন্য কিছু হয়ে যাচ্ছে।
  • শব্দের ভুল প্রয়োগ: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মৃত ব্যক্তিদের নামের ক্ষেত্রে বা সাধারণ পরিচিতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক অনুবাদের কারণে ভুল শব্দ ঢুকে পড়ছে।
  • কমিশনের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা

    নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করে। আধিকারিকদের মতে, বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে গিয়ে সব সময় ম্যানুয়ালি (হাতে কলমে) যাচাই করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে কম্পিউটার সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এই ‘যান্ত্রিক ভুল’ বা ‘লিপ্যন্তর বিভ্রাট’ বাড়ছে। যদিও ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে, তবুও সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বাড়তি বিড়ম্বনা।

    সমস্যার গভীরতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা বানানের নিজস্ব কিছু নিয়ম এবং বৈচিত্র্য আছে যা সাধারণ সফটওয়্যার সব সময় বুঝতে পারে না। বিশেষ করে উত্তর বা দক্ষিণ কলকাতার বহু পুরনো এবং বনেদি পরিবারের পদবিগুলো যখন যান্ত্রিক অনুবাদের কবলে পড়ে, তখন তার রূপ অনেকটাই বদলে যায়। এতে শুধু পরিচয়ের সংকট তৈরি হয় না, বরং ভবিষ্যতে আইনি বা দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ভোটার তালিকায় নিজের নাম সঠিক থাকা নাগরিক অধিকারের অংশ। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাতে কারো পরিচয় বদলে না যায়, সেদিকে কমিশনের আরও সজাগ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    নবীনতর পূর্বতন