ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে শুক্রবার সকালে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্য ও দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারেরও বেশি উঁচু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয়ের ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে।
এটি গত সপ্তাহে সেবু প্রদেশে সংঘটিত ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা, যেখানে ৭৪ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় ওভারহেড তার দুলছে, গাড়িগুলো থেমে গেছে এবং রাস্তায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দাভাও সিটিতে হাসপাতালের বাইরেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে, আর ভিড় জমেছে হাসপাতালের করিডোরে। দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের গভর্নর এডউইন জুবাহিব বলেন, “কিছু ভবনের ক্ষতি হয়েছে, কম্পন ছিল ভয়ঙ্কর।”
মানায় শহরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মী রিচি ডিউয়েন জানান, অনেক ছাত্র-ছাত্রী ভূমিকম্পের সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। “আমরা সবাই ভয়ে কাঁপছিলাম, জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখিনি,” তিনি বিবিসিকে বলেন।
ফিলিপাইন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সংস্থা (Phivolcs) জানিয়েছে, দেশটি “রিং অব ফায়ার”-এ অবস্থিত হওয়ায় নিয়মিতই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংস্থার পরিচালক ড. তেরেসিতো বকলকল বলেন, “আমাদের বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে — সময় সময় ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামি আমাদের কাঁপিয়ে তুলবে।”
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওসির তালাউদ দ্বীপপুঞ্জে ছোটখাটো সুনামি ঢেউ (প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা) শনাক্ত হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রাথমিক সুনামি ঝুঁকি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কেটে গেছে, তবে মিন্দানাও অঞ্চলে একাধিক আফটারশক (২.৬ থেকে ৪.৯ মাত্রা) অনুভূত হচ্ছে।
গত মাসেই ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে এক সুপার টাইফুনে ১১ জন নিহত হয়েছিলেন।
