হাইকোর্টের নির্দেশে আবারও জঙ্গীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে বসলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। হাই কোর্টের জঙ্গীপুর পৌর বোর্ড পুনর্বহাল নির্দেশ দেয়। আজ মঙ্গলবার কোর্টের পর প্রথম চেয়ারম্যান সহ সকল কাউন্সিলর পৌরসভা দপ্তরে যান এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই জঙ্গীপুর পৌরসভা নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জাকির হোসেন বনাম জঙ্গীপুর পৌরসভা। সেই নিয়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ের জেরে প্রায় ৩০–৪০ দিন আগে চেয়ারম্যান পদ হারান মফিজুল ইসলাম। এরপর জঙ্গীপুর পৌরসভার দায়িত্ব প্রশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং এসডিওর তত্ত্বাবধানে পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছিল।
পৌর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর বিধায়ক জাকির হোসেনের অনুগামীরা বাজি ফাটিয়ে, ফুলের মালা দিয়ে আনন্দোৎসব পালন করেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে মফিজুল ইসলাম হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সমস্ত বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট তাঁর পক্ষেই রায় দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই আজ তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হলেন।
আজ জঙ্গীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ পৌর দপ্তরে এসে হাজির হয় ও ফুলের মালা দিয়ে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা জানান। মানুষের উৎসাহ ও আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ মানুষ অভিযোগ, "প্রশাসকের হাতে পৌরসভা থাকাকালীন তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে।"
চেয়ারম্যান পদে বসে মফিজুল ইসলাম বলেন, “যাঁরা অপবাদ দিয়ে আমাদের পদচ্যুত করিয়েছিল, কিন্তু হাইকোর্ট বিচার-বিশ্লেষণ করে পুনরায় পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগে যেভাবে কাজ করেছি, তার থেকেও আরও ভালোভাবে মানুষের পরিষেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব।” তিনি আরও জানান, মানুষ পুনরায় আগের মতো পরিষেবা পাবে—এই আশাতেই সাধারণ মানুষ আজ উৎসাহিত ও আনন্দিত। আমাদের সঙ্গে সমস্ত কাউন্সিলারের রয়েছেন তাদের সমর্থন আমার সঙ্গে রয়েছে। এবং এও বার্তা দেন, আগামী বিধানসভায় জঙ্গীপুর পৌরসভায় বৃহত্তমভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে লিড করবে বলে জানান।
ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী জানান, “তৃণমুলের মোট ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৩ জন কাউন্সিলর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আজ তাঁদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। আজ মানুষের যে উপচে পড়া উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—জঙ্গীপুরের মানুষ মফিজুল ইসলাম ও আমাদের নেতৃত্বকেই চান।” এদিন আরও দাবি করা হয়, জঙ্গীপুর পৌরসভাকে যেভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, হাইকোর্টের রায় ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।
